প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে, ঝরে পড়ার প্রবণতা কমেছে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগও বাড়ছে। তবে বর্তমানে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর তুলনায় খাবার কম পড়ে যাচ্ছে।
যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ সদস্যের খাদ্য মনিটরিং কমিটি রয়েছে। কমিটির সদস্যরা খাবারের মান, পরিমাণ ও সুষ্ঠু বণ্টন তদারকি করছেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন।
দুর্যোগপ্রবণ এই জনপদে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সংস্থাটি। এতে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ভর্তির আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের তিন উপজেলায় ৪০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ঝিকরগাছায় ১৩১টি, অভয়নগরে ১১৭টি এবং কেশবপুরে ১৫৮টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মোট ৫৯ হাজার ৯১ শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও দুধ।
কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ বলেন, কর্মসূচি চালুর পর প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। পুষ্টির ঘাটতিতে থাকা শিক্ষার্থীরা খাবার পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগও বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে এখন দুপুরে বাড়ি থেকে খাবার আনতে হয় না। তবে শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার বরাদ্দ না থাকায় কখনো কখনো খাবার ভাগ করে দিতে হচ্ছে।
অভয়নগরের অভিভাবক ও স্কুল খাদ্য কমিটির সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের আশপাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুপুরের ক্লান্তি কমছে। ফলে তারা শ্রেণিকক্ষে আরও মনোযোগী থাকছে।
যশোর জেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর রহমান বলেন, স্কুল ফিডিং চালুর পর বিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিই বাড়েনি, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হারও বেড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়তি সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
ঝিকরগাছার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলম বলেন, নতুন প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সারাদেশে এটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের বরাদ্দ নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে শতভাগ শিক্ষার্থীকে কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি।
শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও তাঁর দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
সুশীলনের উপপরিচালক শাহিনা পারভীন বলেন, শিশুদের পুষ্টি সুরক্ষা এবং সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। সব ধরনের দুর্যোগ ও দুর্ভোগ মোকাবিলা করে প্রত্যন্ত বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত টিফিন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার সরবরাহের দাবিটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকেও জানানো হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। সুশীলন কলা, রুটি ও ডিম; আকিজ দুধ এবং প্রাণ বিস্কুট সরবরাহ করছে। কোনো খাবার নষ্ট বা ভেঙে গেলে তা পরদিন সমন্বয় করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রতিদিন কমবেশি হয়। এ কারণে আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাবার ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি পাইলট প্রকল্প। বাস্তবায়নের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।