অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেল্টা টাইমস প্রতিবেদক

শিক্ষা

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার

2026-08-11T15:26:33+06:00
2026-08-11T15:26:33+06:00
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছেন শিক্ষামন্ত্রী
ডেল্টা টাইমস প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম   (ভিজিট : ০)
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোর না হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারোনি, আজ তোমাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনা ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি, সব মিলিয়ে অনেকের মনে হতে পারে, সবকিছু যেন থেমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়। এটি কেবল পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটি হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি অনুভব করতে পারি, এই সময়টা তোমাদের জন্য কত কষ্টকর। আমি নিজেও তোমাদের এই কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি।’ প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা ও সহপাঠীদের উপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের ওপর গভীর হতাশা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিভাবকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সন্তান হয়তো আজ সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। এ সময়ে কঠিন কথা, উপেক্ষা বা ভর্ৎসনার পরিবর্তে তাদের প্রয়োজন আদর, স্নেহ ও সাহস জোগানো। ‘ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন’ অভিভাবকদের প্রতি এমন আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষকদের প্রতিও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী কেন পিছিয়ে পড়েছে, তার কারণ খুঁজে বের করা সবার দায়িত্ব। ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়, এর সঙ্গে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের গল্প এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। বরং জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখনো লেখা বাকি। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর আজকের দিনটির দিকে ফিরে তাকালে অনেকেরই মনে হবে, সেদিন অযথাই তারা হতাশ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তোমরা একদিন এই দুর্ভাগা দেশকে নক্ষত্রের পথে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। তোমাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তোমাদের পাশে আছে, ছিল, থাকবে।’

এদিকে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিলে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ভোকেশনালে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার সব বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

ফলাফলে ছাত্রীদের সাফল্যও এবার তুলনামূলকভাবে বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আর ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২ হাজার ৭৮০ জন ছাত্র।

ফলাফলের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের এককভাবে দায়ী না করে শিক্ষক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

ডেল্টা টাইমস/ আরএফ 








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ