প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম আপডেট: ১১.০৮.২০২৬ ২:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৩)

ছবি: ডেল্টা টাইমস
মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার গড়িয়েছে হাইকোর্টে। মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাকে সহায়তা করছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
আট বছরের আছিয়া ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে সে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মাগুরা ও ফরিদপুরে চিকিৎসার পর ঢাকায় নেওয়া হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। মামলার তদন্ত ও বিচার শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি ছিলেন আছিয়ার বোনের শ্বশুর।
তবে অভিযোগের অপর তিন আসামি সজীব শেখ, রাতুল শেখ ও জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। সজীব শেখ ছিলেন আছিয়ার বোনের জামাতা, রাতুল শেখ তার ভাই এবং জাহেদা বেগম তাদের মা।
ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর আইন অনুযায়ী মামলার নথি অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষ থেকে আপিল করা হয়। ফলে এখন উচ্চ আদালতে একই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল, দুই বিষয়েই শুনানি হচ্ছে।
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসার পর এসব মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেয় বিচার বিভাগ। এর অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ১০ জুন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। ওই বেঞ্চে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মামলাগুলোর শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে বিশেষ আইনজীবী টিমও গঠন করা হয়েছে। টিমে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।
আছিয়া হত্যা মামলার হাইকোর্টের শুনানির মধ্য দিয়ে এখন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আসামির আপিলের আইনগত পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ