প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১০)

সংগৃহীত ছবি
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে নয়াদিল্লির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এসব ইস্যুতে সহযোগিতা প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে সরকার।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার পেয়েছে, তার মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ছিল অন্যতম। ’
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি এর আগেও ভারতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। এবার ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টি আবারও গুরুত্ব দিয়ে তোলা হলো। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় নয়াদিল্লি সহযোগিতা করবে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে।
উল্লেখ্য, হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক কাঠামোর আওতায় এসব বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত আনার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ আশা করছে, এসব বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান জটিল বিষয়গুলোর সমাধানের পথ আরও সুগম হবে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ