প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম (ভিজিট : ৬)

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো উদ্বোধন করা হবে। আজ রোববার (৯ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার এরই মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্মের মডেল নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী মেয়েদের জন্য ফ্রক এবং ছেলেদের জন্য হাফশার্ট ও শর্টস রাখা হয়েছে। ইউনিফর্ম তৈরিতে শিক্ষার্থীদের আরাম, ব্যবহারিক সুবিধা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক একরূপতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করা হয়। ওই সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু হবে।
সভায় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী অনুদান দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, পোশাক ও জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ ও জুতাসহ সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।
এদিকে মিড-ডে মিল কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ববি হাজ্জাজের মতে, কোনো পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজন শিক্ষার্থীর কাছে তা পৌঁছেছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বাস্তবায়নের সময় কী ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেটিও প্রকল্পের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
সরকার মনে করছে, ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলের মতো সহায়ক কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি একটি সমান সুযোগভিত্তিক ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ