জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ জিসান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) জাকসুর সভাপতি বরাবর এ পত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে জিসান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা আজীবন থাকবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের জন্যেও দোয়া রইলো। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।’
মুহিবুল্লাহ শেখ জিসান পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘আমি জাকসুর নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক। কোনো রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা প্যানেলের অংশ না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি এ দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর স্বার্থ ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে আমার সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা আমি সবসময় পাইনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক নির্বাচন ও অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং অনুষ্ঠান চলাকালে আমাকে প্রশাসন ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করতে বাধ্য করা এবং এর কারণে সৃষ্ট হট্টগোলের ঘটনা আমাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। এ ছাড়াও এ ঘটনার জন্য মঞ্চে আমাকে দুঃখ প্রকাশ করার ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।’
জিসান বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থের প্রভাবাধীন হয়ে কাজ করতে পারেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার নীতি, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে আপস করে এই পদে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’
ডেল্টা টাইমস/ সামিয়া তাসনীম স্বাতী/ আরএফ