এক-দুদিনের জ্বরেও হতে পারে ডেঙ্গু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লাইফস্টাইল

বর্ষা এলেই বাড়ে এডিস মশার উৎপাত। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ডেঙ্গুর ভয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন

2026-08-09T15:53:21+06:00
2026-08-09T15:53:21+06:00
রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এক-দুদিনের জ্বরেও হতে পারে ডেঙ্গু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বর্ষা এলেই বাড়ে এডিস মশার উৎপাত। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ডেঙ্গুর ভয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর শুরুটা অনেক সময় সাধারণ জ্বরের মতো হওয়ায় রোগীরা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। ফলে এক-দুদিনের জ্বরকেও অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে জ্বর দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ শিশু। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। তাই কোনো শিশুর জ্বর হলে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ধরে নিয়ে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষার খরচের কথা চিন্তা করে দেরি করার কারণ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮২৭ জন। এ বয়সী রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন ২৫ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণেও কিছুটা স্বস্তির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫৯ জন, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে মৃত্যু হয়েছিল ৯৫ জনের। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, দুটিই কম। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান দেখে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও বদলে যেতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশা ধ্বংস করা। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের নিচে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সব নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন ’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। কোনোভাবেই জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এক-দুদিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।’


ডেল্টা টাইমস/ আরএফ 








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ