নাফ নদী থেকে ৩ বাংলাদেশি জেলেকে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

টেকনাফে নাফ নদীর মোহনা থেকে মাছ ধরার সময় ট্রলারসহ তিন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী

2026-08-09T10:34:36+06:00
2026-08-09T10:34:36+06:00
রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নাফ নদী থেকে ৩ বাংলাদেশি জেলেকে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম   (ভিজিট : ০)

টেকনাফে নাফ নদীর মোহনা থেকে মাছ ধরার সময় ট্রলারসহ তিন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।

স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার সময় তাদের অস্ত্রের মুখে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অংশে চলে যাওয়ার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থল নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অপহৃত জেলেরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়া এলাকার লেডা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল (২৭) এবং বাকি একজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। 

শাহপরীর দ্বীপ ৭ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণপাড়া নৌঘাট কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বলেন, সকালে তিন জেলে মাছ ধরতে নাফ নদীতে যান। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে এসে প্রথমে তাদের ধাওয়া করে। পরে ট্রলারসহ তিনজনকে আটক করে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও একই এলাকা থেকে ৩০ থেকে ৪০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জেলেরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। সুযোগ পেলেই আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার জেলেদের জন্য এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই আরাকান আর্মির সদস্যরা সাধারণ জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, তিন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের জলসীমা অতিক্রম না করার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৬ আগস্ট কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় জেলেদের নিবন্ধনের মাধ্যমে জলসীমা অতিক্রম রোধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরার সময় জেলেরা মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ