মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে,

2026-07-15T20:18:39+06:00
2026-07-15T20:18:39+06:00
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩২ আষাঢ় ১৪৩৩

সংসদের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী
মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৯)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ও বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র ও দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।


বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বক্তব্যে তিনি দেশের কৃষিখাত এবং প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। নিজে একজন কৃষকের সন্তান উল্লেখ করে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সব কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের, যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়; ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্য যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।


বক্তব্যের একটি বড় অংশে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, আগের দিন যখন এক বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে নিজের এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানতে চান, তখন তিনি বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী নীতিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।


দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বদলে টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে অটল।


২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে মূল চালিকাশক্তি ধরা হয়েছে। যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।


অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তিনি বলেন, দেশকে কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করাই লক্ষ্য নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সেদিন সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তিন বছর আগে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। বিগত নির্বাচনে দেশের মানুষ এই ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, ফলে এটি এখন কেবল বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।


একই সঙ্গে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের আগে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


সংসদের সব সদস্য ও দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের রক্তঋণ শোধ করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।











  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ