কাতার-কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের খুজেস্তান

2026-07-13T09:42:18+06:00
2026-07-13T09:42:18+06:00
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

কাতার-কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪২ এএম   (ভিজিট : ৯)
কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে একজন মার্কিন সামরিক দমকলকর্মী : ফাইল ছবি

কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে একজন মার্কিন সামরিক দমকলকর্মী : ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে চালানো বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রোববার (১২ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত চলা দুই দেশের এই নজিরবিহীন ও ভারী পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ- জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ রেভল্যুশনারি গার্ডসের দেওয়া বেশ কয়েকটি বিবৃতির বরাতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা জর্ডানের ‘প্রিন্স হাসান এয়ার বেস’, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ড্রোনের একটি কমান্ড সেন্টার ও কুয়েতের ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে এই হামলার পরপরই বাহরাইনজুড়ে আকস্মিক সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাইরেনের আওয়াজে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানায় এবং অনতিবিলম্বে তাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়।

ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আক্রমণের পরিধি ও গতি বহুগুণ বাড়িয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই তারা এই ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরান আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এবারের ইরানি হামলা কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে গত এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো হামলা হলো। অন্যদিকে, মে মাসের শুরুর পর থেকে কোনো আক্রমণের শিকার না হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন সময় রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে তারা ইরানের ওপর এই নতুন হামলা শুরু করেছিল।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ