
যশোরের নোয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে নৌপরিবহন অধিদপ্তর গঠিত টাস্কফোর্স বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। অভিযানে দুইটি কনসাইনি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) রোকসানা খাইরুন নেছা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট নৌপুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগত গম, মসুর, সার ও সালফেট বহনকারী ২৬টি এবং মোংলা বন্দর থেকে আগত সার ও কয়লা বহনকারী ১৫টিসহ মোট ৪১টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগত জাহাজগুলোর মধ্যে ২০ দিনের বেশি সময় অপেক্ষমাণ থাকা দুটি জাহাজ খালাসরত রয়েছে। ১০ দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ ছিল আটটি জাহাজ (এর মধ্যে দুটি খালাসরত), পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ ছিল তিনটি জাহাজ (এর মধ্যে একটি খালাসরত) এবং পাঁচ দিনের কম সময় অপেক্ষমাণ ছিল ১৩টি জাহাজ (এর মধ্যে তিনটি খালাসরত)।
অন্যদিকে মোংলা বন্দর থেকে আগত জাহাজগুলোর মধ্যে ২০ দিনের বেশি সময় অপেক্ষমাণ ছিল একটি, ১০ দিনের বেশি সময় অপেক্ষমাণ ছিল তিনটি (এর মধ্যে একটি খালাসরত), পাঁচ দিনের বেশি সময় অপেক্ষমাণ ছিল সাতটি (এর মধ্যে দুটি খালাসরত) এবং পাঁচ দিনের কম সময় অপেক্ষমাণ ছিল চারটি জাহাজ (এর মধ্যে দুটি খালাসরত)।
অভিযানকালে যেসব জাহাজ সাত দিনের বেশি সময় ধরে অপেক্ষমাণ থাকলেও এখনো আনলোডিং ঘাট বা নির্ধারিত তারিখ পায়নি, সেসব জাহাজ দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ১০ দিনের বেশি সময় জাহাজ অপেক্ষমাণ রাখার দায়ে মালামালের দুই কনসাইনি প্রতিষ্ঠান—এস এস শিপিং ও নোয়াপাড়া ট্রেডিংকে কৃষি পণ্য বিপণন আইনের ১৯(ঠ) ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, নোয়াপাড়া নদীবন্দরের সব ঘাটেই পণ্য খালাস কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলমান রয়েছে এবং কোনো ঘাট খালি হওয়া মাত্রই নতুন জাহাজ এসে ভিড়ছে। তবে পণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজের তুলনায় ঘাটের সংখ্যা কম হওয়ায় পণ্য খালাসে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যশস্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খালাস করায় এতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, লাইটার জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধ এবং বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ