২০-এর শেখা, ২১-এর প্রত্যয়

মতামত

রাত পোহালেই ২০২১। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিশ্ববাসী। শেষ হবে ২০২০ সাল নামক

2020-12-31T09:48:31+06:00
2020-12-31T11:10:55+06:00
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

২০-এর শেখা, ২১-এর প্রত্যয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৯:৪৮ এএম  আপডেট: ৩১.১২.২০২০ ১১:১০ এএম  (ভিজিট : ৮১২)
বা থেকে- তানভীর হাসান, শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রওশন জাহান সুমাইয়া শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।  রেজওয়ান আহম্মেদ শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। রোকনুজ্জামান শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বা থেকে- তানভীর হাসান, শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রওশন জাহান সুমাইয়া শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। রেজওয়ান আহম্মেদ শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। রোকনুজ্জামান শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

রাত পোহালেই ২০২১।  পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিশ্ববাসী। শেষ হবে ২০২০ সাল নামক ব্যতিক্রমী এ বছরটি। যে বছর জুড়ে ছিল শুধুই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির রাজত্ব। যা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। অনলাইনে পড়াশোনা-ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল বছর জুড়েই। এ বছরটি অনেক কিছুই শিখিয়েছে। ২০২০-এর এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ২০২১- এ কী হবে আমাদের প্রত্যয়? কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।


বিগত দিনের শিক্ষা বাস্তবায়িত হোক
তানভীর হাসান
শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাপ্তি, হতাশা, গ্লাানি বা অবসাদের বছর ইত্যাদি যে নামেই ২০২০ কে অবহিত করি না কেন, কোনটায় বোধহয় নামান্তর করা ভুল হবে না। থাকুক প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তি সবকিছুই কোন না কোন শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা জানান দিয়ে যায়। তেমনি ২০২০ সালটাও ঘরবন্দী অবস্থায় বিষাদময় পরিস্থিতিতে থাকতে শিখিয়ে গেল। বছরটিতে প্রাপ্তির চেয়ে হারানোর বেদনাই ছিল বেশি। হারানোর দিকটা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে ক্যাম্পাসে থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় একটি বছর। আর প্রাপ্তির দিকটা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে মা বাবাকে বড় হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি কাছে পাওয়া, বিরক্তিকর অনলাইন ক্লাস, মহামারী করোনা ভাইরাস, বিষাদময় কিছু দিনসহ এমন কঠিন ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা। নতুন বছরে বিগত দিনের এই শিক্ষাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে। সামনের সোনালী দিনে হঠাৎ করে কর্মবিমুখ মানুষের মানিয়ে চলার পথে যা হবে দীর্ঘ বাঁধা। নতুন বছরের প্রত্যয় থাকবে বিগত বছরের হারিয়ে যাওয়া বা প্রাপ্তির শেষ থেকে শুরু করে আবার সবাইকে নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে একসাথে বাঁচতে শেখা।

বিশের বিষে, একুশের প্রত্যয়
রওশন জাহান সুমাইয়া
শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

২০২০ বছরটিকে বিষের সাথে তুলনা করলেও হয়তবা কম হবে। কম বেশি সবার জীবনেই প্রভাব ফেলেছে এই বছরটি। কেউ হারিয়েছেন আপনজনকে, কেউবা প্রতিনিয়ত নিজের সাথেই লড়াই করে যাচ্ছে শুধুমাত্র এই ২০২০ সালটি পার করে নতুন আলোর আশা দেখবে বলে। ২০২০ বছর থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি। কিছু শিখেছি মানুষের সাথে হওয়া ঘটনা থেকে, কিছু শিখেছি নিজের সাথে হওয়া ঘটনা থেকে। শেখার আসলে কোন শেষ ছিলো না। একাকিত্বের সাথে লড়াই করে কিভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হয় সেই শিক্ষা আমরা ২০২০ থেকেই পেয়েছি। অনেক মুখোশধারী মানুষ কে চিনতে সাহায্য করেছে এই বছরটি। ধর্ষণের চিত্র দেখে এই সমাজে টিকে থাকতে নিজেকে কিভাবে আরো শক্তিশালী করতে হবে তা শিখেছি। করোনায় মানুষের মৃত্যুর খবর মানুষকে আরো বিনয়ী করে তুলেছে। আমাদের এই ক্ষনস্থায়ী জীবনে ভালো কাজের উৎসাহ হোক সকলের প্রাপ্য। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই হোক মানুষের মূল ব্রত। এ পৃথিবীতে কি হবে তা না ভেবে এমন একজন মানুষ হতে চাই যার মৃত্যুতে কোটি কোটি মানুষ মনে রাখবে। নতুন বছরে মানবতাই হোক সকলের ব্রত এই প্রত্যাশা।

২০-এর শোক হোক ২১-এর শক্তি
রেজওয়ান আহম্মেদ
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

কালের পরিক্রমায় ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাটাও উল্টানোর সময় এসে গেছে, শপথ নিতে হবে নতুনের। কিন্তু প্রাক্তন (২০২০) আমাদের কাছে মোটেই সুখকর ছিলো না। মৃদু শীতের রেশকে উপেক্ষা করে মহামারী আর শঙ্কার উত্তাপ যেন গোটা পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে অল্প সময়ের ব্যবধানে। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকট এতো তীব্রভাবে আমাদের গ্রাস করবে সেটা সকল শিক্ষার্থীদেরই অজানা ছিল। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এ বছরটিতে। শিক্ষা, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রগতি, সমাজ, সংস্কৃতি সমগ্র খাতকে করেছে অচল। ধর্ষণসহ অন্যান্য ব্যধিও মহামারীর মত ছড়ালেও করোনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে কিভাবে সবাইকে নিয়ে একসাথে বাঁচতে হয়, দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। বিশেষ করে এ যুদ্ধে তারুণ্যকে আমরা দেখেছি যেন সেনাপতির ভূমিকায়। করোনার ভয়াল থাবা আমাদের আপনজনদের পাশাপাশি কেড়ে নিয়েছে নক্ষত্রতুল্য অসংখ্য গুণীজনদের। এই শোককে নতুন বছরের শক্তিতে পরিণত করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারলেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার শিক্ষা বাস্তবায়িত হোক।
রোকনুজ্জামান
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
করোনাভাইরাস আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশের শ্রেণী বৈষম্যের প্রকটতা। তবুও, ঘরবন্দী এ দিনগুলোতে আমাদের মনোবল দৃঢ় রাখতে সবচেয়ে বেশি যেটা সাহায্য করেছে, তা হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্বাস। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে শুরু করে আশেপাশের মানুষদের নিয়েও ভাবার অবকাশ পেয়েছি আমরা। সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজেকে ও পরিবারকে সমর্থন যোগাতে যে আত্মপ্রত্যয় প্রয়োজন তা এ বছরে বেশ ভালোভাবেই রপ্ত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছি। মহামারিতে সর্বদা সজাগ থাকার শিক্ষা নিয়েছি। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণাও পেয়েছি এ বছরে। ঘরবন্দী থেকেও মানবিকতার এক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে গেছেন সেচ্ছাসেবকরা। পাশাপাশি সরকারের এই মহামারিতেও সকল ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি রাখা দেশের মানুষকে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে। সবকিছুকে পিছনে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে দেশ ও দেশের মানুষ। নতুন বছরে নতুন কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা যায়। পুরনো বছরের এই শিক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন হবে নতুন বছরে, সেটাই সকলের প্রত্যাশা।








ডেল্টা টাইমস্/মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ/সিআর/জেড এইচ










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ