প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম (ভিজিট : ০)

বাংলাদেশের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও গতিশীল ও মজবুত করতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তার সবুজ সংকেত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শ্রেণি উপযোগী পড়ালেখা এবং অঙ্কে শক্ত ভিত গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল ব্রত। একইসঙ্গে সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি সফল করে তুলতেও এই তহবিল দারুণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শেখার মান নিয়ে এখনো ঘাটতি রয়েছে। দেশের ১০ বছর বয়সি শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনতে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে।
সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিশ্বের অন্যতম বিশাল একটি পরিমণ্ডল। দেশের বিভিন্ন সরকারি স্কুল, এনজিওর তত্ত্বাবধানে চলা পাঠশালা, কিন্ডারগার্টেন আর মাদ্রাসায় দুই কোটিরও বেশি খুদে শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
নতুন এ কার্যক্রমে খুদে শিক্ষার্থীদের পড়া ও অঙ্কের বুনিয়াদ শক্ত করতে পাঠ সহায়ক উপকরণ, গোছানো সিলেবাস এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের এক দারুণ সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের নব্বই শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দক্ষ ও দূরদর্শী করে তুলতে দেওয়া হবে লিডারশিপ ট্রেনিং বা নেতৃত্বমূলক প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন,ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হওয়া জরুরি। পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদান বা রেমিডিয়াল লার্নিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর প্রয়োগেও কর্মসূচিটি সহায়তা করবে।