সৃজনশীল অর্থনীতির জাতীয় রূপরেখা প্রণয়নে ব্র্যাক ও ইউনেস্কোর চুক্তি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

শিক্ষা

বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে একসঙ্গে কাজ করতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ও জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও

2026-11-05T19:45:35+06:00
2026-11-05T19:45:35+06:00
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সৃজনশীল অর্থনীতির জাতীয় রূপরেখা প্রণয়নে ব্র্যাক ও ইউনেস্কোর চুক্তি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৩)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে একসঙ্গে কাজ করতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ও জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো। এই অংশীদারত্ব দেশের সৃজনশীল শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং এ খাতের উন্নয়নে একটি জাতীয় রূপরেখা প্রণয়নে সহায়তা করবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এবং ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যেমন, আমাদের সমৃদ্ধ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র এবং আবহমান ঐতিহ্যও তেমন এক অমূল্য অর্থনৈতিক সম্পদ, যার অপার সম্ভাবনাকে আমরা মাত্র কাজে লাগাতে শুরু করেছি। ইউনেস্কোর সঙ্গে এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, গবেষণালব্ধ প্রমাণ ও ধারণা একত্রিত করে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য একটি জাতীয় কৌশল ও রোডম্যাপ প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করা। যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ইতোমধ্যে এ খাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার সুযোগকেও প্রসারিত করবে। ব্র্যাক এই খাতকে একটি সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত ইকোসিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করে। কারুশিল্পীদের সঙ্গে আড়ংয়ের কয়েক দশকের কাজের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের ‘গণনাটক’ কর্মসূচি এবং কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন উদ্যোগ ‘অতিথি’র মাধ্যমে এ খাতের বিকাশে ব্র্যাকের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ব্র্যাকের প্রত্যাশা এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে ইউনেস্কো, বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কাজ করা।”

ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, “বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কারুশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও রন্ধনশিল্পীসহ সাধারণ বাংলাদেশিদের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। এই অংশীদারত্ব দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেজমেন্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ, চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার মৌটুসী কবির, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের হেড অব কালচার কিযী তাহনিন। 

অংশীদারত্বের আওতায় সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ চিহ্নিত করে একটি জাতীয় রূপরেখা তৈরিতে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান সৃজনশীল শিল্পের পরিবেশ ও সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হবে। এ খাতের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও খুঁজে দেখা হবে।

এই উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব পাবে চলচ্চিত্র ও অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্প, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন, চলচ্চিত্র উৎসব এবং ঐতিহ্য। এ ছাড়া দেশের শহরগুলোকে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল সক্ষমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে একটি জাতীয় ‘ক্রিয়েটিভ সিটিজ নেটওয়ার্ক’ গঠনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করবে ব্র্যাক ও ইউনেস্কো।

এর অংশ হিসেবে ঢাকাকে ইউনেস্কোর ‘ক্রিয়েটিভ সিটিজ নেটওয়ার্ক’-এ যুক্ত করার সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন শহর সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক শিল্পকে কাজে লাগিয়ে টেকসই নগর উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ, মানুষের আয় ও জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি এবং দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরতে চায় ব্র্যাক ও ইউনেস্কো।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ