৭ নভেম্বর না এলে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য পথে যেত: শাহাদাত হোসেন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা না থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য পথে চলে যেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম

2026-11-07T13:50:08+06:00
2026-11-07T13:50:08+06:00
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

৭ নভেম্বর না এলে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য পথে যেত: শাহাদাত হোসেন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পিএম   (ভিজিট : ০)

৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা না থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য পথে চলে যেতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় বিপ্লব উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে জনতার কাতারে নিয়ে এসেছিল। সেদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা না থাকলে বাংলাদেশের রাজনীতি অন্য পথে চলে যেতে পারত। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের অভ্যুদয় ঘটেছিল। এদিনের চেতনা ভুলে গেলে চলবে না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের আগে দেশে নানা রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহ চলছিল। একপর্যায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করে জনতার কাতারে নিয়ে আসা হয়। সেদিনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন ধারায় নিয়ে যায়। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম, কিন্তু পরাধীন ছিলাম। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে এ দেশের আপামর জনসাধারণ সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ইতিহাসেও এ দিনের গুরুত্ব রয়েছে।’

শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রসঙ্গ টেনে সিটি প্রশাসক বলেন, কৃষি, তৈরি পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের মতো খাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বিপ্লব উদ্যানের সংস্কারকাজ প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, এখানে ইতিহাস বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বিপ্লব উদ্যান থেকে উই রিভোল্ট বলে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ এখানে ছয় দফার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল। ছয় দফার সঙ্গে এই উদ্যানের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি বলেন, উদ্যানটির প্রকৃত ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। সেখানে ৪০০ টন ওজনের একটি জাতীয় পতাকা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ এবং জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরা হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম বিপ্লব উদ্যানের ইতিহাস জানতে পারে।

সিটি প্রশাসক আরও বলেন, ভিন দেশের আধিপত্য মোকাবিলা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শ ধারণ করে উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটনসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ