অস্ট্রেলিয়ার সব ক্রিকেটার-কোচই ‘স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি’ আগে থেকে জানতেন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

খেলাধুলা

ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ‘স্যান্ডপেপার গেট’। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ চলাকালে বল বিকৃতির লক্ষ্যে

2026-11-07T09:45:25+06:00
2026-11-07T09:45:25+06:00
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

উসমান খাজার বিস্ফোরক তথ্য
অস্ট্রেলিয়ার সব ক্রিকেটার-কোচই ‘স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি’ আগে থেকে জানতেন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ এএম   (ভিজিট : ৯)

ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ‘স্যান্ডপেপার গেট’। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ চলাকালে বল বিকৃতির লক্ষ্যে শিরিষ কাগজ ব্যবহার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ওই ঘটনায় তিনিসহ স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের মতো তারকারা শাস্তি পেয়েছিলেন। এবার জানা গেল বিস্ফোরক এক তথ্য– অস্ট্রেলিয়ার দলের সবাই নাকি ওই কেলেঙ্কারি ঘটানোর বিষয় আগে থেকেই জানতেন!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পর নিজের অতীত স্মৃতিগুলো একে একে প্রকাশ করছেন অজি এই তারকা ওপেনার। তার আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘সবর’-এ আরও বেশ চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ‍মূল বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশিত হতেই অবশ্য কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। এই যেমন– স্যান্ডপেপার ঘটনায় কেবল তিন ক্রিকেটারের জড়িত থাকার যে তথ্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত, সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন খাজা!

২০১৮ সালে কেপটাউন টেস্টে বিতর্কিত ওই কেলেঙ্কারি ঘটেছিল। কিন্তু এর আগে গেবেরখা টেস্টেও নাকি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা স্যান্ডপেপার ব্যবহার করেছেন। কিন্তু পুরো সত্যটা কেউ সামনে আনেনি বলে সংবাদমাধ্যম ‘নাইন’কে খাজা বলছেন, ‘এটি আমাদের সবার সম্মিলিত বিষয় ছিল। শুধু ব্যাটার, বোলার বা স্টাফদের বিষয় নয়, আমাদের সবার। আমি এমন কেউ হতে চাই না যে সামনে এসে সত্যটা তুলে ধরছে। আসল সমস্যা হলো, আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এতদিনে সত্যটা সবার সামনে চলে আসবে।’

খাজার নতুন করে তোলা দাবিটি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর আগে তারা জানিয়েছিল, কেবল ক্যামেরন ব্যানক্রফট, স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারই ওই অপ-কৌশলটির কথা জানতেন। বোলার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লায়নও ২০২১ সালে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছিলেন। এবার সম্ভবত সবাইকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করতে যাচ্ছেন উসমান খাজা!

নিজের বইতে খাজা দাবি করেছেন, গেবেরখার সেন্ট জর্জ পার্কে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে স্যান্ডপেপার (শিরিষ কাগজ) ব্যবহারের বিষয়ে হালকা মেজাজে হওয়া আলোচনার সময় স্মিথ সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং বলেন যে, তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানতে চান না। এরপর ব্যানক্রফটই ম্যাচটির প্রথম ইনিংসে স্যান্ডপেপার ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, ওই ইনিংসে বল বেশ ভালো সুইং করছিল। পরে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে তৃতীয় টেস্টের সময় খাজা ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলেন এবং দেখেছিলেন ম্যাচের মধ্যে তার সঙ্গে কারা কথা বলেছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দল ধরা পড়ে যায়।

বিবিসির তথ্যমতে, ম্যাচের সম্প্রচারকারী চ্যানেল সুপারস্পোর্টের লাইভ ব্রডকাস্ট ডিরেক্টর আলভিন নাইকার এবং তার ক্যামেরা ক্রু খেয়াল করেন অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডার ব্যানক্রফট বলটি পকেটে বা প্যান্টের ভেতর ঘষার সময় কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরার ফ্রেমে পরিষ্কার দেখা যায় যে, ব্যানক্রফট তার পকেট থেকে হলুদ রঙের একটি বস্তু (যা পরে স্যান্ডপেপার বা শিরিষ কাগজ হিসেবে নিশ্চিত হয়) বের করে বলের একপাশ ঘষছেন এবং বলের আকৃতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এটি সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারের পরিকল্পনা ছিল এবং অধিনায়ক স্মিথ সব জেনেও তা থামাননি। ওই অপরাধে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাস এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি অধিনায়কের দায়িত্বে ওয়ার্নারকে আজীবন এবং স্মিথকে দুই বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যানও এই ঘটনার পর পদত্যাগ করেন।

এদিকে, বিতর্কিত স্যান্ডপেপার ইস্যুতে খাজাকে কখনোই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করেনি বলে দাবি তার। কিন্তু পুরো টেস্টে তিনি ব্যানক্রফটের কাছাকাছি ছিলেন। খাজা বলেন, ‘তারা জানত আমি পুরো বিষয়টি দলগত হিসেবে নেব, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য বলার জন্য প্রস্তুত– এই কারণে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়নি বলে আমার ধারণা। আমি ফোনকল পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি। এরপর যখন তাদের শাস্তি ঘোষণা হলো, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’

ওয়ার্নার কিংবা দলের অন্য কেউ সামনে এসে সত্যটা বলবে বলে ধারণা ছিল খাজার। কিন্তু সেরকম কিছু না হওয়ায় বিস্মিত এই অজি তারকা, ‘আদর্শিক দিক থেকে আমি এমনটা করতে চাই না। আমি এমন কেউ হতে চাই না যে সামনে এসে সত্যটা তুলে ধরবে। সমস্যা হলো, আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে আট বছর পর এতদিনে সত্যটা সবার সামনে চলে আসবে। হয়তো ভেবেছিলাম ডেভি (ডেভিড ওয়ার্নার) বিষয়টি ফাঁস করবে, অথবা অন্য কেউ এ নিয়ে আরও কথা বলবে। আমি ভাবিনি যে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত এই পর্যায়ে গড়াবে। তবে বিষয়টি যত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং একেবারে শুরু থেকেই আমি সবসময়ই চেয়েছি যে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি সামলে নিই।’

খাজার ভাষ্যমতে, ড্রেসিংরুমে অন্যদের কাছে গিয়ে তিনি বলেছিলেন পুরো বিষয়টির ভার যেন দলগতভাবে নেওয়া হয়। কিন্তু খাজা নিজে তো সামনে আসেননি, শাস্তিপ্রাপ্ত তারাও স্পষ্টভাবে মুখ খোলেননি। কিন্তু ওয়ার্নারকে এ নিয়ে দিনের পর দিন নিজের ভেতর আঘাত পেতে দেখেছেন তিনি। ব্যানক্রফট এরপর আর সেভাবে সুযোগ পাননি, যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স ভালো। সৌভাগ্যবশত সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে এখনও খেলছেন স্মিথ। ওয়ার্নারও ক্রিকেটে ফেরার পর ঠিকঠাকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার সুযোগ পেয়েছেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ