প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম (ভিজিট : ৪)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এক প্রতিবেদনে তার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। খবর টেলিগ্রাফের ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যৌন হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন কিউল। পরবর্তী সময়ে ওই হোটেলেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ এবং তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের বিবরণ রয়েছে।
কিউলসহ পাঁচ নারীর বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ অথবা যৌন হেনস্থা করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের কমিটির কর্মীদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক দফায় সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, তার বয়স যখন ২৪ বছর, তখন নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।
কিউলের দাবি, ট্রাম্প তাকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখাশোনা করব।’
কিউলের অভিযোগ, ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টিন তার কাছে আসেন। নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এপস্টিন তাকে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে আমন্ত্রণ জানান।
কিউলের অভিযোগ, সেখানে প্রবেশের পর ট্রাম্প তাকে পেছন থেকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ ও কালশিটে দাগ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিউল ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কিউলের দাবি, কথিত নির্যাতনের পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং আবারও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তাকে চুপ থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করার সময় কিউল বলেছিলেন, ১৯৯৩ সালে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাঁর ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু খেয়েছিলেন এবং তাঁর পোশাক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করার অভিযোগও করেছিলেন কিউল।
তবে সে সময় কিউল বলেছিলেন, ঘটনাটি আর সামনে এগোয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পকে আগে কথা বলার অনুরোধ করেছিলেন, এরপর ট্রাম্প থেমে যান। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কিউলের এক দীর্ঘদিনের বন্ধু দাবি করেছিলেন, প্রায় ২০ বছর আগেই কিউল তাকে ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের কথা জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি, এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই তিনি তার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
ট্রাম্প এপস্টিনকে ‘বিকৃত রুচির মানুষ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগ সামনে আসার সময় ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট অভিযোগগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কেও হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মুখপাত্রের দাবি, এপস্টিন-সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই ট্রাম্পকে দায়ী করা যায় না এবং তিনি এ বিষয়ে ‘সম্পূর্ণভাবে অভিযোগমুক্ত’ হয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রতিবেদনটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক সাফল্য থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও সেগুলো সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগগুলো প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে উল্লেখ্য করে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই