প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম (ভিজিট : ৯)

রাতের আঁধারে ঘর ছাড়ার নির্দেশ, চারদিকে অবরোধ, বাইরে যাওয়ার পথও বন্ধ। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের বাসিন্দারা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অবরোধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি ঘরছাড়া হয়েছেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্তত ১৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব অভিযানে প্রায় ৭০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।
এদিকে, হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল জাবারি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অবরোধে শহরটির প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়েছেন।বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাননি তারা।
অন্যদিকে, শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকায় ঘরছাড়া বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে তাদের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। গত শুক্রবার হেবরনের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।
ওই দুই ফিলিস্তিনিও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। এর পরই অধিকৃত পশ্চিম তীরে পুরোপুরি অবরোধ জারির নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এরপর হেবরনে অভিযান চালিয়ে বাড়িঘর ও যানবাহন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া, বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া এবং শহর অবরুদ্ধ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা।
অন্যদিকে, হেবরনের উত্তরে হালহুল এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছয় শিশুসহ নয়জনকে চিকিৎসা দিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
এছাড়া, জেনিনে ইসরায়েলি অভিযানে দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।হেবরন শহরে প্রায় ২ লাখ এবং পুরো হেবরন গভর্নরেটে আরও প্রায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। শহর ও আশপাশের এলাকা অবরুদ্ধ থাকায় তাদের চলাচল, কাজ ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। - সূত্র: আল-জাজিরা
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই