সুন্দরবন ও মোংলা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সারাদিন যেসব কর্মসূচি রয়েছে

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

সুন্দরবন ও বাগেরহাটের মোংলা বন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে মোংলা বন্দরের নতুন জেটি, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল

2026-10-22T09:55:46+06:00
2026-10-22T09:55:46+06:00
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবন ও মোংলা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সারাদিন যেসব কর্মসূচি রয়েছে
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ এএম   (ভিজিট : ৭)

সুন্দরবন ও বাগেরহাটের মোংলা বন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে মোংলা বন্দরের নতুন জেটি, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সুন্দরবনের ইকোট্যুরিজম পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমান বন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করে ১০টা নাগাদ আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ড রুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ড রুম সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশ নেবেন। বিকালে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন। বিকাল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকাল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল বা ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই গ্যাস মোংলায় এনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প কারখানায় ব্যবহার পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনাল করার লক্ষ্যে গত আগস্ট মাসে আকরাম পয়েন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী স্থানটি পরিদর্শনে আসছেন। স্থানটি চূড়ান্ত হলে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ অন্য কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী চায়না বিনিয়োগ ভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও পরিদর্শন করবেন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর পরিদর্শনে এসে চীনের সঙ্গে চুক্তি হওয়া বন্দরের নতুন জেটি নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, সঠিকভাবে বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং হলে নাব্যতা বাড়বে, তাহলে বড় বড় জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারবে।

সুন্দরবনের পর্যটক ব্যবসায়ী ও লঞ্চ বডি মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল আলম বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশে ​প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন। আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে ইকো-ট্যুরিজমের এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে পারে।

মোংলা বনিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর নিয়ে অনেক আসা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে খুলনা, বাগেরহাটসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠলে নতুন আশার আলো সৃষ্টি হতে পারে।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী জাহানারা অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে মোংলা বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বা অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হলেই এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পেতে পারে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, চায়নারা মোংলাতে ইনভেস্টের ঘোষণা দিয়েছে। চায়নাদের মোংলা ইপিজেডে একটি এক্সপোর্ট প্রসেসিং স্পেশাল জোন দেওয়া হয়েছে। সেই জন্য তারা কি কি ফ্যাক্টরি করবে, আমাদের বেনিফিট কি হবে সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ হবে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরকে গতিশীল করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মোংলা বন্দর ইপিজেড এবং শিল্পাঞ্চলের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। মোংলা নদীর ওপর সেতু, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন তার নজরে আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (এক্সিম ব্যাংক) মধ্যে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) মূল্যমানের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে থেকে জানানো হয়, চুক্তির আওতায় চীন সরকার প্রকল্পটির জন্য ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন আরএমবি ঋণ দেবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ গৃহীত ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এ ঋণ ব্যবহার করা হবে। 

ঋণচুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেংজুন তিয়ান স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল, কন্টেইনার ইয়ার্ড, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বন্দরের প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ