এল ক্লাসিকোর আগে লাইপজিগকে উড়িয়ে দিল রিয়াল
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২০ এএম (ভিজিট : ৭)

লা লিগায় সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে পিছিয়ে ছয় পয়েন্টে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেন অন্য এক রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপের মঞ্চে হোসে মরিনহোর দলকে এখনও থামাতে পারেনি কেউ। এবার আরবি লাইপজিগকে উড়িয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। প্রথমার্ধে বের্নার্দো সিলভার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান আর্দা গুলার ও কিলিয়ান এমবাপে। লাইপজিগ একটি গোল শোধ করলেও শেষ দিকে ইয়ান দিয়োমান্দের দুর্দান্ত ভলিতে বড় জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের সব কটিতে জিতল রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চতুর্থ জয়ও পেল মরিনহোর দল। আগামী রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর আগে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে পর্তুগিজ কোচকে।
লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একাদশেই রেখেছিলেন মরিনহো। ব্রাজিলিয়ান তারকাকে জায়গা দিতে বেঞ্চে বসতে হয় সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দিয়োমান্দেকে। মাঝমাঠে সুযোগ পান বের্নার্দো ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। আর সেভিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতোই রাইটব্যাকে খেলেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য রিয়ালকে বেশ চাপে রেখেছিল লাইপজিগ। জার্মান ক্লাবটির একাধিক আক্রমণ ঠেকাতে হয়েছে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে। ২৮ মিনিটে রোমুলোর বিপজ্জনক শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। এরপর ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি।
অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন লাইপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন বান্দেভোর্ত।
অবশেষে ৪৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় রিয়াল। ভালভার্দের পাস থেকে আরদা গুলেরের শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন লাইপজিগ গোলরক্ষক। কিন্তু ফিরতি বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে কাছ থেকে জালে পাঠান বের্নার্দো। গত গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর এটিই পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের প্রথম গোল।
বিরতির পরও রিয়ালের আক্রমণের ধার কমেনি। ৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গুলার। জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে হেডে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপে। সেই বল ধরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধা সামলে জালে পাঠান তুর্কি মিডফিল্ডার। আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে রিয়াল। বিশেষ করে এমবাপে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ান। বেলিংহামের পাস থেকে একটি সুযোগ পেয়েও অবশ্য গোল করতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৭০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে তুলে নিয়ে দিয়োমান্দেকে মাঠে নামান মরিনহো। বদলি হওয়ার পর বেঞ্চে বসে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে লা লিগায় এমনিতেই খেলতে পারছেন না তিনি। আগামী ৪ নভেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এইকে এথেন্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার আর মাঠে নামার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসের বদলি হয়ে নেমেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন দিয়োমান্দে। ৮৩ মিনিটে তার পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁকানো শটে রিয়ালের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। এর দুই মিনিট পরই অবশ্য ব্যবধান কমায় লাইপজিগ। রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিদিয়াম গোমিস। তাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
তবে জার্মান ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের ক্রসে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালের ওপরের কোণায় পাঠান দিয়োমান্দে। তাতে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই