প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম (ভিজিট : ০)

নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
সরকারের উদ্দেশে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।’
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনা ঠেকাতে আইন করতে চায়। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর সেই সরকারকেই অন্যায়ের শিকার হতে হয়। পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা ও সাইবার অপরাধকে আলাদা করতে হবে। সরকারের সমালোচনা হবেই। গণতান্ত্রিক সমাজে তা হতেই পারে। এই দুটিকে আলাদা করা না গেলে বিপদ থেকেই যাবে।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নোয়াব সভাপতি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনেই কাউকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাবিত আইন নিয়ে জেলায় জেলায় আলোচনা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান মতিউর রহমান চৌধুরী। আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠক পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এতে অংশ নেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, অনলাইন এডিটর্স ফোরামের আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান পিন্টু, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজসহ অন্যরা। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এ বৈঠকের আয়োজন করে।