প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ পিএম (ভিজিট : ১১)

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণ ও সাংবাদিকদের নিরাপদ রাখাই সাইবার সুরক্ষা আইনের মূল উদ্দেশ্য।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, সাংবাদিকদের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার পরামর্শ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধুমাত্র কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্যই সাইবার সুরক্ষা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলক্রমে এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা সাইবার সুরক্ষা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।
আমরা কিন্তু এটা বিবেচনা করছি। বিষয়টি কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কীভাবে করা যায় এবং এর ভাষা কেমন হবে, সে বিষয়ে আমরা বিবেচনা করছি- বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য হচ্ছে না, এ বিষয়ে সরকারের মানসিকতা স্পষ্ট। সাংবাদিকদের লেখা বন্ধ করা বা সরকারের পক্ষে লেখানোর জন্য এ আইন করা হচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এর ফলে অনেকে আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন। একইভাবে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই জনগণের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্যও সরকার কাজ করছে। সাংবাদিকরা যেন নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
সভায় ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। নবম ওয়েজ বোর্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দশম ওয়েজ বোর্ডের আগে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও তোলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের ভালো-মন্দ না দেখলে তারা জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। ভালো সাংবাদিকরা লেখালেখি বন্ধ করে দিতে পারেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিক তৈরি হওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হবে।
তবে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণমাধ্যম মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়ার পরও মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন না করলে সাংবাদিকরা এর সুফল পাবেন না।
এ সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পেশাগত সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারা সাংবাদিক এবং কাদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা বা নীতিমালা প্রয়োজন।
অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য যেমন হুমকি, তেমনি জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি। এ বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে সাংবাদিক নেতাদের তাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাব পেলে দাবিগুলো বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই