প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পিএম (ভিজিট : ১৮)

যৌনকর্ম, মানব পাচার ও যৌন শোষণকে আলাদা করে দেখার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁরা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানব পাচার বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের কার্যালয়ের ‘নাসরীন হক সভাকক্ষে’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নারীপক্ষের আয়োজনে ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক এ সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন। আজ বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানব পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই। যৌনকর্ম ও মানব পাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যাঁরা বিভিন্ন কারণে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাঁদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে তাঁদের মানবাধিকার এবং নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
যৌনকর্মের সংজ্ঞা তুলে ধরে জান্নাত হুসনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যৌনকর্ম বলতে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে বোঝানো হয়। এ ক্ষেত্রে সেবা দেওয়া ও নেওয়া, দুই পক্ষকেই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং দুজনের সম্মতি থাকতে হবে। অন্যদিকে জোরপূর্বক যৌনসেবা আদায়, শোষণ ও নিপীড়ন যৌন শোষণের আওতায় পড়ে। এসব অপরাধের সঙ্গে সম্মতিভিত্তিক যৌনকর্মের পার্থক্য বোঝা জরুরি।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন বলেন, নাগরিকত্বের প্রশ্নে একজন সাধারণ নারী ও একজন যৌনকর্মীর অবস্থান একই; দুজনই এ দেশের নাগরিক। তাই অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁদের পরস্পরের পাশে থাকা উচিত। তিনি বলেন, যৌনকর্মীদের একটি বিশেষ পরিচয়ের মধ্যে আটকে রেখে প্রায়ই অপরাধপ্রবণ হিসেবে দেখা হয়। সমাজের নানা কলঙ্ক ও অপবাদ তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সমাজে আরও বড় অপরাধ ঘটলেও সেগুলো নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। যৌনকর্মীদের সবার আগে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে যৌনকর্মে যুক্ত করা যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। মানব পাচার ও যৌন শোষণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি, নিপীড়ন এবং সম্মতির অনুপস্থিতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও এসব পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। তাঁরা বলেন, যৌনকর্মীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভাষায় সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি যৌনকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই