প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম (ভিজিট : ১৫)

রোডক্রাশ বা সড়ক দুর্ঘটনাকে প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা উল্লেখ করে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বমানের ও সময়োপযোগী আইন পাস এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লালমাটিয়ায় এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা 'স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট' আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। 'স্ট্রেনদেনিং রোড সেফটি অ্যাক্ট অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
স্টেপস-এর নির্বাহী পরিচালক চন্দন কুমার লাহিড়ীর সঞ্চালনায় কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষক নেতা ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ আকমল হোসেন। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল হায়দার মুকুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, স্টেপস রোড সেফটি প্রকল্পের পরামর্শক ভূবেন চন্দ্র বিশ্বাস, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা)-এর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল এবং স্টেপস-এর পরিচালক শাহেদা ফেরদৌসী মুন্নী প্রমুখ।
কর্মশালায় মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের নিরিখে সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করছে, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ গতি, নিরাপদ যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবা ও সহায়তার বিষয়গুলো 'সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ'-এর আলোকে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত 'সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬' একটি বৈশ্বিক মানের উদ্যোগ, যা দ্রুত পাস করা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।