প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম আপডেট: ১৪.১০.২০২৬ ৫:৩৮ পিএম (ভিজিট : ৯)

ফাইল ছবি
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে খালিদকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত।
গত সোমবার দুপুরে এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এর জেরে তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করান খালিদ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে ওই ব্যক্তিকে মারধর এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি বেশি আলোচনায় আসে।
পুলিশ জানায়, আটক খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম বলেন, এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তার। তবে সেখানে উপস্থিত পুলিশের অন্য দুই সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগের হওয়ায় তাদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে ওই ব্যক্তিকে গালাগাল করছেন এবং থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পথচারীদের ভিড় জমে। কেউ দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিলেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
ভিডিওতে পথচারীদের কথোপকথনের কিছু অংশ শোনা যায়। কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ওই ব্যক্তি এক নারীর গায়ে হাত দিয়েছেন এবং ঘটনাটি ক্যানটিনে ঘটেছে।
একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশের দুই সদস্যকে দেখিয়ে তাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তার মোবাইল ফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধরকারী যুবক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ওই ব্যক্তি এক নারীর গায়ে হাত দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে আবারও থাপ্পড় মারেন যুবকটি।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে যখন মারধরের ঘটনা চলছিল, তখন কয়েক হাত দূরেই পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আশপাশের অন্য পথচারীদের মতো তারাও ঘটনাটি দেখছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।