এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত, কারসাজি মেনে নেবো না

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অর্থনীতি

এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত, এ পণ্য নিয়ে কোনো কারসাজি সরার মেনে নেবে না বলে

2026-10-14T13:12:21+06:00
2026-10-14T13:12:21+06:00
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাণিজ্যমন্ত্রী
এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত, কারসাজি মেনে নেবো না
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পিএম   (ভিজিট : ৮)
সচিবালয়ে কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সচিবালয়ে কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত, এ পণ্য নিয়ে কোনো কারসাজি সরার মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি ডিলাররা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সেই কৌশল বিস্তারিত জানানোর সময় এখনো আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না। কারণ, এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।’

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব কিংবা কমিশন কমবেশি হওয়া নিয়ে বিরোধও দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থে বাজার পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে কেউ জনসাধারণকে জিম্মি করার চেষ্টা করলে সরকার তা প্রতিহত করবে।’

বৈঠকের পর কবে নাগাদ এলপিজি সমস্যার সমাধান হবে, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলপিজি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নয়, এটি আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা যেসব উৎস থেকে সাধারণত এলপিজি আমদানি করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।’

‘দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হওয়া, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল প্রণয়ন করতেই আজকের বৈঠক হয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। তাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বিইআরসির সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে সংকট চলছে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট করে পণ্যের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা গ্রহণ করা হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলপিজি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ এবং কমিশন বাড়ানোর দাবিসহ বিভিন্ন প্রতিবাদে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) সারাদেশে দুই দিন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ট্রডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন।

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আজ বিশ্বে এই জ্বালানি খাতটা সাংঘাতিক একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। আজকের যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং প্রাইসের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। প্রাইস ওঠানামা করতেছে, সবসময় পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন সোর্স একমাত্র আমেরিকায় বাকি আছে, তাছাড়া কোনো সোর্স ঠিক নেই। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করতেছি যে, যেন ভোক্তা পর্যায়ে, সহনীয় পর্যায়ে মূল্য রাখা যায়, সে সম্বন্ধে আলোচনা করছি।’
বিজ্ঞাপন

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে এরকম একটা অবস্থার মধ্যে যদি কেউ এই ধর্মঘট করার চেষ্টা করে, এসেন্সিয়াল এই (পণ্য) নিয়ে, আমাদের ১৯৫৬ সালে আইন আছে, আমরা সেই আইন প্রয়োগ করব। কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট, জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকারে এসেছি, আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণ যেন কোনো অসুবিধার মধ্যে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।’

ধর্মঘটের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ধর্মঘটের কথা দিচ্ছেন, আমি মনে করি আলোচনার টেবিলে বসেছে, আলোচনা করে সেটা যেন সমাধান করে।’


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ