প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম (ভিজিট : ০)

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতির সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশে থাকতে ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহী বিশ্বব্যাংক। তবে সংস্থাটির কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি সংকটে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে, পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপও রয়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে এবং সংকট উত্তরণে সরকারের নীতির সঙ্গে একমত।
তাঁর ভাষ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর পর ভবিষ্যতের জন্য যে কর্মসূচি ও গতিপথ ঠিক করা হয়েছে, তাতেও বিশ্বব্যাংকের পূর্ণ সমর্থন আছে। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গেও সংস্থাটির অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে এবং ঢাকায়ও আলোচনা চলবে।
অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার চাওয়া নিয়ে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমান আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এর মাধ্যমে বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ কীভাবে কাজ করবে এবং কী সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরিতে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অংশীদারির কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ সরকার লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে, বাংলাদেশও নিজেদের সুপারিশ তুলে ধরেছে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগোচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির সূচকের পরিবর্তন দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই মূল কথা।’
বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এজন্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই বৈঠক হলো। নীতিগত সমঝোতার কথা জানানো হলেও অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিমাণ, শর্ত ও সময়সীমা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি দেশের উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।