সংরক্ষিত আসনেও ঠাঁই নেই, ঝুঁকিতে নারী-শিশু ও প্রবীণেরা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

রাজধানী

রাজধানীর লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাসে সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা

2026-10-11T15:15:09+06:00
2026-10-11T15:15:09+06:00
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় কমিটি ও এসসিআরএফের পর্যবেক্ষণ
সংরক্ষিত আসনেও ঠাঁই নেই, ঝুঁকিতে নারী-শিশু ও প্রবীণেরা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পিএম   (ভিজিট : ১২)

রাজধানীর লোকাল বাসে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাসে সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আবার অধিকাংশ লোকাল বাসে হেলপার না থাকায় যাত্রীদের তাড়াহুড়া করে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এক মাস ধরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পর্যবেক্ষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠন দুটি।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি বাসে নয়টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে এ নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে তা নেই। যেসব বাসে নির্দেশনা লেখা রয়েছে, সেখানেও তা মানা হচ্ছে না। যাত্রীভর্তি বাসে সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রীদের বসে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যেতে হয়।


পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ লোকাল বাসে হেলপার নেই। বাসমালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নিয়ে চালকেরা একজন কন্ডাক্টরকে সঙ্গে নিয়ে বাস চালান। দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা চালক ও কন্ডাক্টর ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য তাঁরা হেলপার রাখেন না বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে যাত্রী ওঠানামার সময় তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। কন্ডাক্টরকে একদিকে বাসের ভেতরে ভাড়া আদায় করতে হয়, অন্যদিকে বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়। এ কারণে অনেক সময় রাস্তার যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে তাড়াহুড়া করে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হয়।

বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীদের বাসে ওঠা-নামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। বাস থেকে নামার সময় এ ঝুঁকি আরও বাড়ে। এ ধরনের ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


বাসে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে চারটি সুপারিশ করেছে সংগঠন দুটি। এগুলো হলো—সব বাসে নির্ধারিত শ্রেণির যাত্রীদের জন্য নয়টি আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি হেলপার নিয়োগ দেওয়া, চালক বা কন্ডাক্টরের কাছে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া দেওয়ার প্রথা বন্ধ করা এবং সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার প্রতি আগ্রহ বেশি।

এসব অনিয়ম বন্ধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানান তিনি।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ