প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম (ভিজিট : ০)

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রাক্-পূজা, পূজার সময় এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এবারও নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়।
পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর রাখা এবং প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
দুর্গাপূজায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ এবং এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, কল্যাণ ফ্রন্টের ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারম্যান জয়দেব রায়, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রূপন চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক দল পূজা ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, রমনা কালীমন্দিরের সদস্যসচিব শ্রী মিঠুন কুমার দাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ম্যানেজার স্বামী দেবধ্যানানন্দ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব সঞ্জয় গুপ্ত এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের বিপ্লব কুমার পালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন। মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
সভায় উপস্থিত নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।