বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজের অব্যাহতি বেআইনি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ পিএম (ভিজিট : ১২)

ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। সংগঠনটি এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক আলোচনা গোপনে অডিও ধারণ করে তা খণ্ডিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সাইবার অপরাধ এবং বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত। শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো উচিত বলে মনে করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তবে ঘটনাটিকে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ধর্মকে হাতিয়ার করে জনপরিসরে ব্যবহারের পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
ইংরেজি বিভাগের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার আগেই গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে জরুরি সভা ডাকে বিভাগ। কোনো তদন্ত ছাড়াই এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁর কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা এ পদক্ষেপকে ন্যায়বিচারপরিপন্থী, একপেশে ও নিপীড়নমূলক বলে অভিহিত করেছে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে তাসনিম সিরাজ মাহবুব একটি বিশেষ গোষ্ঠীর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক ঘটনাকে দ্রুত রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে পূর্বপরিকল্পিত বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিসরে যেকোনো পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকলেও ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও শ্রেণিকক্ষের মতো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে পরিচয় শনাক্তের জন্য মুখ দেখানো কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সার্বক্ষণিকভাবে চোখ অনাবৃত রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার ও দায়দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্দেশনার অস্পষ্টতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিপীড়ন ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করে সংগঠনটি।
এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া শিক্ষকের বক্তব্য ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপতথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।