প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম (ভিজিট : ৬)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতার টাকা জমা হতে শুরু করেছে।
বেতন-ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জটিলতার সমাধান হলে তারা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক সামিউন বাসির। তিনি বলেন, দাবির মুখে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ শুরু করা হয়েছ।
সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে।
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, সকাল ১১টা থেকে আমরা চুয়েট শাখার সোনালী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। পরে আমাদের আন্দোলনের মুখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সমাধান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকেই কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ব্যাংকে টাকা ঢুকতে শুরু করে।
তিনি বলেন, বেতন-ভাতার সমস্যার সমাধান হওয়ায় আমরা ব্যাংকের সামনে থেকে সরে এসেছি। তবে আমাদের আগের দাবি, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে।
চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে টানা ১৬ দিন ধরে শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে।
বেতন-ভাতার জটিলতার সমাধান হলেও উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই