প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম (ভিজিট : ০)

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন শুক্রবার দুপুরেদিনাজপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি সাধারণ মানুষের দল, এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং কৃষক, অসহায় মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের মধ্যে সহায়তা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এতে মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দ, শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দুস্থ, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী এবং জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের সহায়তা এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সারা দেশে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষক ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার ১ হাজার ৮০ জন কৃষকের প্রত্যেককে বিনামূল্যে সবজির বীজ, ১০ কেজি সার ও নেট দেওয়া হয়। কৃষকদের সবজি চাষে উৎসাহিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ৭২ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জন দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ব্যক্তির মধ্যে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
একই অনুষ্ঠানে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ৪৮ জন দরিদ্র রোগীর প্রত্যেককে এককালীন ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহিদুল ইসলাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহমিদা ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।