প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম (ভিজিট : ০)

প্রবীণদের বোঝা নয়, মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেছেন, প্রবীণদের জন্য সরকারের দেওয়া ভাতা যথেষ্ট নয়। দেশের সব বয়স্ক মানুষকে এর আওতায় আনতে ভাতার পরিমাণ ও পরিধি আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি বা প্রায় পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে। একই সময়ে মানুষের গড় আয়ুও বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ৯ বছর হলেও তা ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৮০ বছরে পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের দীর্ঘ জীবনকে শুধু বয়স বৃদ্ধির পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়। এবার ১ অক্টোবর ফেনীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান থাকায় ৭ অক্টোবর ঢাকায় দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। তবে ১ অক্টোবর সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে।
এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। এ প্রতিপাদ্য যথার্থভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার পাশাপাশি জীবনচক্রভিত্তিক একটি মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়তে সরকার কাজ করছে। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও দীর্ঘ জীবন লাভকারী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণেও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রবীণদের কল্যাণে সরকারের একার পক্ষে সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে থেকে নবীন-প্রবীণের মিলনমেলার র্যালিতে অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ আলোচক ছিলেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামছুল ইসলাম, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইনতেজার রহমান, সহসভাপতি মঞ্জু আরা বেগম, কেন্দ্রীয় সদস্য হায়াতুন্নবী এবং প্রবীণ নারী শিক্ষক মোমেনা খাতুন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
আলোচনায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নাগরিকেরা প্রবীণদের স্বাধীন, স্বনির্ভর, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
তারা প্রবীণদের নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা, মেট্রোরেল, ট্রেন, গণপরিবহন ও বিমানবন্দর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রবীণদের আয় ও সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মক্ষমতাহীনদের সামাজিক সহায়তা বাড়ানো এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণে বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও কর্মকৌশল কার্যকরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান তারা।
২০৫০ সালের বাংলাদেশে প্রবীণদের ভবিষ্যৎ
আলোচকরা বলেন, ২০৫০ সালের বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়বে। এ কারণে প্রবীণদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের দীর্ঘ জীবন নানা বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার কারণে আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে বলে তারা উল্লেখ করেন। দেশে প্রবীণ নারীদের সম্পদের মালিকানাও অত্যন্ত সীমিত। এ অবস্থায় নারীসহ সব প্রবীণের জন্য নতুন করে শেখার সুযোগ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান আলোচকরা।
দেশে প্রবীণদের জন্য বিদ্যমান ৯২টি শাখার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণবান্ধব সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই