প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ এএম (ভিজিট : ০)

সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার, ফাইল ছবি
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে দেওয়া ১৮ দফা প্রস্তাবে তিনি এ সুপারিশ করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মো. সরওয়ার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে চালকদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি প্রস্তাব করেন, চালকদের মধ্যে যারা অপরাধী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা কমার পাশাপাশি এ পেশায় নতুন করে তাদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক ডিএমপি কমিশনারের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু সড়কে অভিযান চালালেই হবে না; এসব যানবাহনের মালিক ও চালকদের পরিচয়ও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রতিটি রিকশার তথ্যের পাশাপাশি চালকদের তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে রিকশার গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্ন বা শনাক্তকারী নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এতে অবৈধভাবে নতুন রিকশা তৈরি বা পুরোনো রিকশার পরিচয় পরিবর্তন করে সড়কে নামানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
মো. সরওয়ার আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ করতে পুলিশের জনবল বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট গ্রুপ পুনর্নিয়োগ এবং বিভিন্ন ফিডার রোডে ‘রিকশা ট্র্যাপার’ স্থাপনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
তার ১৮ দফা প্রস্তাবে অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ, ব্যাটারিচালিত রিকশার যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও আমদানি বন্ধ, রিকশা জব্দ করে রাখার জন্য ডাম্পিং স্থান নির্ধারণ এবং চালকদের বিকল্প ই-রিকশায় পুনর্বাসনের মতো বিষয়ও রয়েছে।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, রাজধানীর যানজট ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকভাবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই