প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ এএম (ভিজিট : ০)

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়ায় রেস্তোরাঁ খাত চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সংগঠনটির দাবি, বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে খাবারের দাম বাড়াতে না পারায় অনেক রেস্তোরাঁ টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে সার্বিক বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পল্টনস্থ ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সংকট নিরসনের দাবিতে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান এসব দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মশলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, দোকানভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
মালিক সমিতির ভাষ্য, ব্যয় বাড়লেও অধিকাংশ রেস্তোরাঁ খাবারের দাম সে অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারছে না। কারণ, খাবারের দাম বাড়ালে গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে একদিকে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমছে। সার্বিক বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রেস্তোরাঁ খাত শুধু ব্যবসার একটি ক্ষেত্র নয়; এটি কর্মসংস্থান, খাদ্য সরবরাহ ও নগর অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ খাতের টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি, ব্যয় কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংকট নিরসনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি নয় দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে খাবারের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
৩. ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করা এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।
৪. এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লোডশেডিং কমিয়ে আনা।
৫. বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি ও অহেতুক আর্থিক জরিমানা বন্ধ করা।
৬. রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন, এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার দাবি বাস্তবায়ন।
৭. গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া।
৮. ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৯. রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া।
সংগঠনটি বলেছে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে রেস্তোরাঁ খাতের চলমান সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং দেশের খাদ্যসেবা খাতকে আরও টেকসই ও মানসম্মত করার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই