বাংলাদেশ হারালে লাভ চীনের, সতর্কবার্তা ভারতীয় সাংবাদিকের

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটাতে উদ্যোগী হতে হবে নয়াদিল্লিকেই। দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে

2026-10-01T14:38:40+06:00
2026-10-01T14:38:40+06:00
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতীয় বিশ্লেষক
বাংলাদেশ হারালে লাভ চীনের, সতর্কবার্তা ভারতীয় সাংবাদিকের
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ০)

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটাতে উদ্যোগী হতে হবে নয়াদিল্লিকেই। দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ ভারতীয় সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পারুল চন্দ্রা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান দূরত্ব দুই দেশের কারও জন্যই ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন ভারতের কৌশলগত প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

পারুল চন্দ্রার মতে, তারেক রহমানের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভারতেরই।
তার ভাষ্য, ভারত যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চীন সেই কৌশলগত শূন্যতা পূরণে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষক মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত জুনে তারেক রহমানের চীন সফর এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে তার বৈঠককে তিনি এই পরিবর্তিত বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিবন্ধে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকেও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম জটিল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পারুল চন্দ্রার মতে, বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনায় শেখ হাসিনার বক্তব্য ঢাকায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগেও এর প্রভাব পড়েছে।

তবে তিনি মনে করেন, উভয় দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ভারত ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠিয়েছে এবং বাংলাদেশ নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগ দিচ্ছে।

পারুল চন্দ্রার মতে, দুই দেশের নতুন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়া উচিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পথ তৈরি করা। একই সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও আগামী দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
নিবন্ধের শেষাংশে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে জিম্মি করে রাখা উচিত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশেরই ভবিষ্যতমুখী ও গঠনমূলক সম্পর্কের পথে এগোনো প্রয়োজন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ