শিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন আম্মার, এক বছর পর সামনে এলো অব্যাহতির চিঠি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

শিক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন। তবে ‘নৈতিক পদস্খলন, নারীদের

2026-10-01T09:45:43+06:00
2026-10-01T09:45:43+06:00
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন আম্মার, এক বছর পর সামনে এলো অব্যাহতির চিঠি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ এএম   (ভিজিট : ৮)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ ছিলেন। তবে ‘নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ’সহ একাধিক অভিযোগের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার ‘সাথী’ পদ বাতিল করে সংগঠনটি। প্রায় এক বছর পর শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি চিঠিতে বিষয়টি সামনে এসেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবিরের সঙ্গে আম্মারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বাবুর সই করা গত ৩১ আগস্টের ওই চিঠিতে আম্মারের সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় সালাহউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্পাসে ‘ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে’ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তার নিয়মিত ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ কারণে ক্যাম্পাস সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এ অবস্থায় আম্মারের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ায় সাড়া না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার এবং সংগঠনের সব পর্যায়ের জনশক্তিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতা বলেন, নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, মহানগর ছাত্রশক্তির পদ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে আম্মারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

ওই নেতা বলেন, ‘আম্মার মূলত তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা শাখার সাথী ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন বিকল্প সাহিত্যে কাজ করতেন। সংগঠনটি শিবিরের জনশক্তি দিয়ে পরিচালিত হতো। জুলাইয়ের পরও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

শাখা শিবিরের আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তার সাথী পদ স্থগিত করে অভিযোগগুলোর জবাব চাওয়া হয়েছিল। তিনি জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সম্প্রতি তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আরো কিছু বিষয় সামনে আসায় এবং আচরণের কারণে যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে নিজের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার। ওই প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মেহেদী সজীব পরবর্তী সময়ে শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আম্মারের ‘সাথী’ পদে থাকার তথ্যসংবলিত চিঠি সামনে আসায় ওই প্যানেলের সঙ্গে শিবিরের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ বহিষ্কার হলে এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করার নিয়ম নেই। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। তিনি তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় পড়াকালীন শিবিরের সাথী পদে যুক্ত ছিলেন। কোডিং সিস্টেমে তাকে এখানে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ক্যাম্পাসে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘সেই জায়গা থেকেই জুলাই আন্দোলনে তাকে বিভিন্নভাবে প্রটোকল ও আশ্রয় দিয়েছে শিবির। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি ও ইসলামী পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে না পারায় সেপ্টেম্বরে তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

মেহেদী হাসান দাবি করেন, শিবির থেকে বহিষ্কারের পর আম্মারের সঙ্গে সংগঠনটির আর কোনো সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অভিযোগ ও শিবিরের চিঠির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ