প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১০)

সংগৃহীত ছবি
চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে ইউনানের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা চালু এবং পাট খাতে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।
তিনি ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের এই বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে, যা দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানির পাশাপাশি ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ চালু হলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের পাট খাতের উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান উন্নয়নে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে দুই অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, সিলেটের পুরনো কারাগার এলাকাকে আধুনিক পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কুনমিংয়ের আধুনিক পার্ক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি।
জবাবে ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, কৃষি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ