প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২৬ ৯:২১ পিএম (ভিজিট : ৮)

পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরসন, অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জট নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার পর জনতা ব্যাংক পিএলসিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহ কোনো কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার জন্য মৌখিক ও খুদে বার্তার মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তার দাবি, এমন নির্দেশনার কারণে চিকিৎসা, পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জরুরি ব্যক্তিগত কাজে ছুটির প্রয়োজন থাকা কর্মকর্তারা সমস্যায় পড়ছেন। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা লিখিতভাবে জারি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেন ঘোষিত এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
তবে কর্মসূচির কয়েক দিন আগে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেনসহ তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন জনি সাহা ও আব্দুল কাইয়ুম। প্রকাশিত বদলি আদেশ অনুযায়ী, মো. মোতাহের হোসেনকে ভোলার দরুন বাজার শাখায়, জনি সাহাকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার শাখায় এবং আব্দুল কাইয়ুমকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস শেষে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরসন, প্রয়োজনীয় অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জট নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির মতে, পদোন্নতি-সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনভিত্তিক ও কার্যকর অর্গানোগ্রাম অনুমোদন জরুরি।
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে আগামী দুই সপ্তাহ নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনার অভিযোগে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটির প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো পূর্বনির্ধারিত কাজও রয়েছে। এ অবস্থায় সবাইকে একযোগে দুই সপ্তাহ ছুটি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ কর্মকর্তারাই বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন বলে তাঁরা মনে করেন।
তাঁদের প্রশ্ন, কোনো নির্দিষ্ট লিখিত প্রশাসনিক আদেশ ছাড়া মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে সব কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি সীমিত করা যায় কি না এবং এর বিধিবদ্ধ ভিত্তি কী। সরকারি চাকরিতে ছুটি ও উপস্থিতি-সংক্রান্ত বিষয়ে পৃথক বিধিমালা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগামী দুই সপ্তাহ নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখার কোনো নির্দিষ্ট লিখিত আদেশ বা বিধান এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
ঐক্য পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি বিভাগের পক্ষ থেকে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে এসব ফোনকল বা কথিত হুমকির অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পদোন্নতির দাবিতে নেতৃত্বে থাকা তিন কর্মকর্তার বদলি নিয়েও ব্যাংকপাড়ায় আলোচনা চলছে। বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি-সংক্রান্ত দাবি নিয়ে কাজ করছেন এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল বলে সহকর্মীদের অনেকে মনে করেন। কর্মসূচির মাত্র কয়েক দিন আগে সংগঠনের আহ্বায়কসহ তিন কর্মকর্তার বদলির ঘটনায় অনেক কর্মকর্তার মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঐক্য পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অংশ হিসেবেই এসব বদলি করা হয়েছে।
তবে বদলি আদেশে কর্মসূচি বা সংগঠনের কার্যক্রমের কোনো উল্লেখ নেই। একইভাবে বদলির সঙ্গে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও কর্তৃপক্ষ দেয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও প্রশ্নের জবাব এখনো স্পষ্ট নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চায় না। কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, অর্গানোগ্রাম ও পদায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বচ্ছ, নীতিমালাভিত্তিক ও প্রয়োজনের আলোকে সমাধানের জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে।
এদিকে, বদলি এবং নৈমিত্তিক ছুটি-সংক্রান্ত কথিত নির্দেশনা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি স্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, কোনো কর্মসূচি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যদি সাধারণ কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক ছুটি গ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়, তাহলে তার লিখিত আদেশ, বিধিবদ্ধ ভিত্তি এবং প্রয়োগের কারণ স্পষ্ট থাকা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দূর হবে।