প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ পিএম (ভিজিট : ৮)

সংগৃহীত ছবি
সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ফার্মেসি শিক্ষার পাঠ্যক্রম নতুন করে সাজানো, ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন ও গ্রেডিংয়ে কার্যকর মানদণ্ড নির্ধারণ এবং ওষুধের বাজার তদারকিতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ার তাগিদ দিয়েছেন ফার্মেসি খাতের বিশিষ্টজনেরা। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে তাঁরা এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে দিবসটি উদযাপন করে স্কুল অব ফার্মেসি। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ফার্মা অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও ও পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে পালিত এ বছরের বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “এমপাওয়ারিং ফার্মাসিস্টস ফর হেলদিয়ার ফিউচারস”।
সেমিনারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষা কারিকুলাম নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে মানবদেহের কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দিতে ন্যানোরোবট ব্যবহারের মতো উন্নত গবেষণায় পৌঁছে গেছে। তাই সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের পাঠ্যক্রমও নতুন করে সাজানোর সময় এসেছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোৎপল। তিনি বলেন, ফার্মেসি পেশাকে এগিয়ে নিতে পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে হবে। একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলে গবেষণায় অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলে মত দেন তিনি।
ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন ও গ্রেডিংয়ের জন্য ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে আরও কার্যকর মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক শরমিন্দ। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং ফার্মেসি পেশার কাজের পরিধি ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
ওষুধের লাইসেন্স প্রদান ও বাজার তদারকির জন্য একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে কাজ করতে হবে, বলেন অধ্যাপক শরমিন্দ। এর পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচ্চতর নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার মান অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে যেমন বায়োইকুইভ্যালেন্স নিশ্চিত করে, স্থানীয় বাজারেও তা নিশ্চিত করা উচিত। এতে রোগীরা ব্র্যান্ডেড ওষুধ ও তার জেনেরিক বিকল্পের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন।
এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম মহিবুজ জামান বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো অনেক বড় পরিসরে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) উৎপাদন করে। ফলে তাদের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং তারা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়। এ কারণে বাংলাদেশে এপিআই উৎপাদন কারখানা স্থাপন বর্তমানে খুব বেশি বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দেন তিনি।
রেনাটা পিএলসির স্ট্র্যাটেজিক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কুদসিয়া কাউসার শাহবাজ শেখ বলেন, দেশে এপিআই উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল আরও শাণিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ও অবদানের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি ফার্মাসিস্টদের রোগীদের চাহিদা ও কল্যাণকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।