ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে মামলার বাদী, কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে রাকিবুল হাসানকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই অডিওতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য শোনা যায়। অডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়ন ও বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য শোনা যায়। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
রাকিবুল হাসান অবশ্য অডিওটি নিজের নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে তার কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানোর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে একই রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অডিওর ঘটনা তদন্তে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে।
এর আগে ওই অডিওকে কেন্দ্র করে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে অডিওটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রাকিবুল হাসান ২০০৭ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। চাকরিজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও থানায় দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্টের পর তাকে প্রথমে ডিএমপির ভাটারা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরে তিনি গুলশান থানার ওসি এবং সর্বশেষ ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ কী নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংবাদ লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ