প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম (ভিজিট : ৩)

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন কাউকে রাজপথে রক্ত দিতে না হয় সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে বলছি, এনাফ ইজ এনাফ।
আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।’
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল।’ অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
কায়সার কামাল বলেন, ‘নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় পরে স্বাধীনতা পেলেও দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুধু স্বাধীন দেশ, পতাকা ও পাসপোর্ট পাওয়ার গর্বের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কতটা কাজ করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমসহ শিক্ষক ও নবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ