প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ১:৫০ পিএম (ভিজিট : ১)

ইসরায়েলকে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় উয়েফার বিরুদ্ধে ‘চোখ বন্ধ করে থাকার’ অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের ফুটবল অংশগ্রহণকে অনুমোদন দেওয়াকে তারা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।
২০২৬-২৭ নেশন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে ইসরায়েল। এরপর গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের প্রতিপক্ষ রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড (দুইবার) ও কসোভো।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েল নিজেদের দেশে ম্যাচ আয়োজন করতে পারছে না। ফলে ২৭ সেপ্টেম্বর রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ১ অক্টোবর কসোভোর বিপক্ষে তাদের ‘হোম’ ম্যাচ হবে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে।
অন্যদিকে ৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের মাঠে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সার্বিয়ার বাক্কা টপোলায়, যেখানে দর্শক উপস্থিতি থাকবে না। ইসরায়েলের অংশগ্রহণ ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা বাড়ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্সের সঙ্গে যোগ দিয়ে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েল সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইউরোপ বিষয়ক পরিচালক স্টিভ ককবার্ন বলেন, উয়েফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বেআইনি দখলদারিত্ব এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কোনো মূল্য দিতে হবে, এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে উয়েফা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল এখনও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ফিলিস্তিনিদের ওপর বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা এবং গাজায় চলমান সংকটের মধ্যেও ফুটবলের মঞ্চ ব্যবহার করছে।’
ককবার্নের দাবি, অবৈধ বসতিতে থাকা ক্লাবগুলো নিষিদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে উয়েফা ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অনেক আগেই ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
‘যেসব রাষ্ট্র গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখোমুখি, তাদের জন্য খেলাধুলাকে জনসংযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়,’ বলেন তিনি।
‘ইসরায়েল ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে, আর একই সময়ে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, তাদের জমি হারাচ্ছে, জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তাদের ইতিহাস মুছে ফেলার অভিযোগ উঠছে। ফুটবল মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরি করার জন্য, কোনো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নয়।’
ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। উয়েফা ও ফিফার কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল আগে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে উয়েফায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল সরকারের সামরিক অভিযানের কারণে অনেকেই দেশটিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।
৭ অক্টোবরের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের একটি তদন্ত সংস্থা গত বছর গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে। তবে ইসরায়েল সরকার এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েলকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি সবচেয়ে বেশি জোরালো হয়েছে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডে। দেশটির প্রধান কোচ হেইমির হালগ্রিমসন স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে তার দল ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছে’।
এর জবাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন হালগ্রিমসনের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও বোকামি’ বলে আখ্যা দেয়।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, জুলাইয়ে সদস্যদের ভোটের পরই ম্যাচগুলো খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ম্যাচ না খেললে উয়েফার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি ছিল।
ভোটে ম্যাচ খেলার পক্ষে ৭৫-৩২ ব্যবধানে সিদ্ধান্ত হয়। তবে হাঙ্গেরি ও সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে কোনো আইরিশ সমর্থক উপস্থিত থাকবেন না। দেশটির সম্প্রচার সংস্থা আরটিইও চুক্তির বাধ্যতামূলক সীমার মধ্যে ম্যাচ সম্প্রচার করবে এবং বিজ্ঞাপন প্রচার করবে না।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই