১১ ব্যাটারের মাত্র দুজন দুই অঙ্কের ঘরে। তবুও ১৭০ রান তুলে স্বস্তিতেই ছিল জ্যামাইকা কিংসমেন। কারণ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ তারা ছুড়ে দিয়েছিল এন্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সকে। কিন্তু সেই ঘোর কাটতে তাদের সময় লাগেনি।
১৭১ রানের লক্ষ্যে ছোটার জন্য ভালো শুরুর বিকল্প ছিল না এন্টিগার। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান তুলে তারা সেই কাজে সফল। চার ব্যাটার মিলেই সিপিএলের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে সফল হওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি করল এন্টিগার দল।
১৭তম ওভারের চতুর্থ বলে হাসান নওয়াজ ছক্কা মারলেন। বল সীমানার ওপারে আছড়ে পড়া পর্যন্ত তিনি ও এএ জাঙ্গু তাকিয়ে ছিলেন। তারপরই উদযাপনে মাতলেন তিনি। স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস পুরো দলের সঙ্গে মাঠের ভেতরে দিলেন ভোঁ দৌড়। জাঙ্গু ও নওয়াজকে আবেগে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর হাত মেলানো ও আলিঙ্গনে এই সাফল্য উদযাপনে মেতেছিল এন্টিগা। প্রথমবার তারা শিরোপা জিতে নিলো।
৩০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জ্যামাইকা ঘুরে দাঁড়ায়। সাইম আইয়ুবকে নিয়ে মাজ সাদাকাত ৮০ রানের জুটি গড়েন। ২৯ রানে সাইম বিদায় নেওয়ার পর আবার ছোটখাটো বিপর্যয়।
১২৭ রানে সাত উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করা সাদাকাতের ১১৪ রানে ভর করে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে দলটি। এই দুজনের বাইরে কেবল দুই অঙ্কের ঘরে রান এসেছে অতিরিক্ত খাত (১২) থেকে। ৫৮ বলে ৮ চার ও ৯ ছয়ে ১১৪ রান করে ইনিংসের শেষের আগের বলে আউট হন মাজ সাদাকাত। এন্টিগার পাকিস্তানি স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে চার উইকেট নেন।
লক্ষ্যে নেমে রাকিম কর্নওয়াল ইনিংসের ষষ্ঠ বলে আউট হন। তার আগে দুটি করে চার-ছয়ে ২০ রান তোলেন তিনি। এই ঝোড়ো শুরুটা এন্টিগাকে আরও উজ্জীবিত করে। এভিন লুইস ও জাঙ্গুর ৬৪ রানের জুটিতে পথ হারায়নি তারা।
৩৮ রানে লুইস বিদায় নেন। তারপর জাঙ্গু ও নওয়াজের ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দাপুটে জয় পায় এন্টিগা। ৩৪ বলে ৫৭ রানে জাঙ্গু ও ৩৫ বলে ৪৭ রানে নওয়াজ অপরাজিত ছিলেন। ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে তারা।
ম্যাচসেরা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পাওয়া দুজনই পাকিস্তানের। ফাইনালের সেরা হয়েছেন সুফিয়ান। শাদাব ১৩২ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিপিএলের এই মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই