ট্রেনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: জামায়াত

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

রাজনীতি

ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির

2026-09-22T15:21:32+06:00
2026-09-22T15:24:26+06:00
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রেনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ভিত্তিহীন: জামায়াত
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২১ পিএম  আপডেট: ২২.০৯.২০২৬ ৩:২৪ পিএম  (ভিজিট : ৪)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুকে পেজে দেওয়া দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো ধরনের তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার আগেই একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা জনাব রিজভীর দেওয়া এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিজেই বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তার উত্তর দাবি করেছেন। তাহলে একই নীতিতে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, নৈরাজ্য ও জনসম্পদ ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তার রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো স্থানে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে লংমার্চ করতে বলা মূল ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপরাধের সঙ্গে একটি দলের নাম জড়িয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আমরা আরও সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশা করি।’

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। তদন্তের আগে অভিযোগ এবং প্রমাণের আগে রায় দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করুন।

তিনি ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, ভাঙচুরসহ সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণই হবে তার বিচারের ভিত্তি- এটাই আইনের শাসনের দাবি।

তিনি রিজভীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং কোনো প্রকার অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য তার প্রতি আহ্বান জানান।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ