প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ৮:৩৯ পিএম (ভিজিট : ৩)

সংগৃহীত ছবি
নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় করতে ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা চেয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। ইউএনএফপিএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন কামকং এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে ল্যাবের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে। মন্ত্রীর অনুরোধে ইউএনএফপিএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি), ওসিসি, শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ, সাইবার বুলিং ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী ইউএনএফপিএকে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও সচেতনতা দৃশ্যমান হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্যাথরিন ব্রিন কামকং মন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ দূর করতে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ও এ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দিবসটি শুধু ঢাকায় নয়, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সবশেষে মন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের যুগোপযোগী বিপণন প্রশিক্ষণ দিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।