আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে

2026-09-20T14:46:03+06:00
2026-09-20T16:15:58+06:00
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম  আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ৪:১৫ পিএম  (ভিজিট : ২১)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন, ফাহাদ, কামরুল ও সিয়াম নামে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিয়ামের বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।


পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ফুটেজ দেখে তুহিনকে শনাক্ত করা হয় এবং মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার আগেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।


একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানান, আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেই তিনি অপ্রতিমকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদ জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তাঁর বন্ধু কামরুলও হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।


আইফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্যমতে প্রথমে তিন জায়গায় অভিযান চালানো হয়, কিন্তু কোথাও ফোনটি পাওয়া যায়নি; তুহিন পুলিশকে ভুল পথে নিয়েছিলেন। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দার নির্জন বনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। তখন ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁরা আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান।


পুলিশ সুপার বলেন, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে, মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যে আইফোনের কারণে হত্যাকাণ্ড, সেটিও উদ্ধার হয়েছে। অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যা মামলার মতো এ মামলারও দ্রুত রায়ের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান।


পুলিশ সুপার জানান, নিহত অপ্রতিমের বয়স ১৩ আর অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হয়ে ২০২৫ সালে ঝরে পড়েন।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কোটবাড়ীর গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিলেন অপ্রতিম। এরপর তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোথাও না পেয়ে ওই দিনই তাঁর বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাঁকে খোঁজেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ কোটবাড়ীর গন্ধমতির বাড়িতে নেওয়া হয়। শেষবারের মতো অপ্রতিমকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ