মশলায় কাঠের গুঁড়া, খাবারে পচা মাংস : চট্টগ্রামে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

চট্টগ্রাম নগরের ১৯টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

2026-09-20T11:47:32+06:00
2026-09-20T11:47:32+06:00
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মশলায় কাঠের গুঁড়া, খাবারে পচা মাংস : চট্টগ্রামে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম   (ভিজিট : ৫)

চট্টগ্রাম নগরের ১৯টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোথাও পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণ, কোথাও অননুমোদিত রং ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং কোথাও কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি মশলা মিলের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আজ (রোববার) এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

কার্যক্রমে লালখানের হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে পূর্বের তুলনায় পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি পাওয়া গেলেও কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। সেখানে মানহীন ঘি ব্যবহার করে মিষ্টি প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া টোস্ট-বিস্কুট বিক্রি, স্যাঁতসেঁতে মেঝে, অপরিষ্কার ছানা প্রক্রিয়াকরণের পাত্র এবং কিছু অংশে তেলাপোকার বিচরণ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬ ধারায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জসিম মশলা মিলে কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে মশলা তৈরি, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং নোংরা ও পচা মরিচ দিয়ে মশলা তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরকারি কাজে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয় এবং একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চকবাজারের বালি আর্কেডের ফুড কোর্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও অনিয়ম পাওয়া যায়। সেখানে কেএফসিকে পচা আলু ও পচা মজেস ব্যবহার করে খাদ্য তৈরির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফুচকা খাদককে পচা আলু ও পচা আম ব্যবহার করে খাবার তৈরির দায়ে ৩০ হাজার টাকা এবং স্ট্রিট ইটসকে পোড়া তেল ব্যবহার, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন, খামিতে ময়লা থাকা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে রাখার দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গ্রিল মাস্টার অ্যান্ড পাপাচিনোতে পচা গাজর, মেয়াদোত্তীর্ণ চীনা সবজি, পচা পেঁয়াজ ও নিম্নমানের সস ব্যবহারের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বক্সে গরম খাবার সংরক্ষণ এবং খোলা অবস্থায় মাশরুম ও ব্ল্যাক অলিভ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

লাজজাতকে মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগি ও ব্রেডক্রাম্ব সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ, কাঁচা মাংসের সঙ্গে ফ্রিজারে বরফ তৈরি, নিম্নমানের সস ব্যবহার এবং নষ্ট বাদাম সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দিল্লি দরবার অ্যান্ড সালাদ লাভার্সে ময়লা পাত্রে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় রান্না করা খাবার রাখা, অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ ব্যবহার, বিষ্ঠাসহ ডিম সংরক্ষণ, পচা আলু সিদ্ধ করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ফল ও দই সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চিলিসে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে রাখা, চুলা থেকে চুইয়ে ময়লা খাবারে পড়া, রক্তমাখা ও অপরিষ্কার মুরগি সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়ায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এলিগ্যান্টে পচা গন্ধযুক্ত মাংস, পচা মাংস, পচা মাশরুম ও পচা চীনা সবজি ব্যবহার করে খাবার তৈরির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া দ্য বোন চাইনা ও ৯ ক্যান্ডেল ২.০-কে মেয়াদোত্তীর্ণ ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস সংরক্ষণের দায়ে যথাক্রমে ২৫ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা, ওয়াফেল কিংকে একই ধরনের মাংস এবং পচা লেমনগ্রাস সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

হটডগ অ্যান্ড কোম্পানিতে পাঙাশ মাছকে ডরি ফিশ হিসেবে বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খামি সংরক্ষণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দ্য ওয়াফেলকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডুডু সংরক্ষণ, মাংসের সঙ্গে বরফ তৈরি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

টমিয়ামকে রান্না করা অতিরিক্ত টক মিশ্রিত স্যুপ ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা, দ্য চিকেন বক্সকে মেয়াদোত্তীর্ণ নাশপাতি ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস সংরক্ষণের দায়ে ২৫ হাজার টাকা এবং ফুচকাওয়ালা অ্যান্ড জুসবারকে পচা গাজর ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি-টক দই সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দ্য মাঞ্চগাইয়ে পচা মাংস এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বার্থে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মহানগর কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, আরএসআরবি-৭, সিএমপি, চট্টগ্রাম এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ