প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম (ভিজিট : ০)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য কে হবেন, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে। এ পদে আলোচনায় রয়েছেন পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।
দুজনের রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচয় আলাদা। একজন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। অন্যজন সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন। ফলে মনোনয়নকে ঘিরে তাঁদের অতীত ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিন শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি জাকসুর নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৯ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি জাকসুর নির্বাচিত সিনেট সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালে জাবিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম গঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা এবং ৫ আগস্ট সাভার এলাকায় তাঁর ভূমিকার কথাও আলোচনায় এসেছে। একই বছর ফেনীর বন্যায় ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নরওয়ের বাংলাদেশ কালচার অর্গানাইজেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো ও গণমাধ্যমে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে পরিচিত হয়েছেন। ২০২৫ সালের জাকসু নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকা আলোচনায় আসে।
ওই নির্বাচনের দিন তিনি কয়েকজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ভোট বর্জন করেন। ভোটারদের আঙুলে কালি না দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে ব্যালট পাওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ সংক্রান্ত বক্তব্যকে সত্য নয় বলে জানায়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল এবং প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি টেলিভিশন টকশোয় দেওয়া বক্তব্যের জেরে জামায়াতে ইসলামীর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার এক নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। নাহরিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে তিনি কথা বলেছিলেন। মামলাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যের ক্ষেত্রে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক মহলে আলোচনা চলছে।
জামাল উদ্দিনের ক্ষেত্রে সামনে আসছে তাঁর দীর্ঘদিনের শিক্ষক রাজনীতি, সাংগঠনিক দায়িত্ব, সিনেট সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ। নাহরিন ইসলাম খানের ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, জাকসু নির্বাচনে ভূমিকা এবং জাতীয় গণমাধ্যমে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সক্রিয়তা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের একটি অংশ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং প্রতিকূল সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরামে মনোনয়নের ক্ষেত্রে অতীত ভূমিকা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কাকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেবেন, সেটিই এখন জাবির শিক্ষক মহলে আলোচনার বিষয়।