ইউক্রেন ইস্যুতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীন-ভারতের, স্বাগত জানালেন পুতিন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম (ভিজিট : ২)

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়াকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন ও ভারত এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই প্রস্তাবকে স্বাগতও জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ রুশ সংবাদসংস্থা সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত কাল রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনে এক ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেছেন, নয়াদিল্লিতে ব্রিক্স জোটের সম্মেলনের অবসরে পারস্পরিক আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে বের করতে পুতিনকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তার।
সাংবাদিকদের পেসকভ জানিয়েছেন, চীন ও ভারতের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত সবিস্তার তথ্য নয়াদিল্লি এবং বেইজিংয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।
এর আগেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে দু’পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর বিষয়ে আগ্রহপ্রকাশ করেছিলেন মোদি; অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জিনপিং যুদ্ধ অবসান সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের খসড়া তৈরি করে মস্কো এবং কিয়েভ— উভয়পক্ষকে তা প্রদানও করেছিলেন।
কিন্তু কূটনৈতিক স্তরে বিভিন্ন পালাবদলের কারণে তাদের সেসব উদ্যোগ আর সফল হয়নি।
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর। প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকও করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া এবং ইউক্রেন সফরে গিয়েছেন। তার আগে মস্কোতে সফরে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রধান জন র্যাটক্লিফও। তবে এই সংকটের সমাধান এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে।
চলতি মাসেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন হতে চলেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই সে দেশের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। পুতিন এই নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টিকে সমর্থন করছেন। রুশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশের মতে, এই দলই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। এই ভোটের আগে সমাধানসূত্র খোঁজার পথে এগোনোর বার্তা দিলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুতিন আরও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারেন। - সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই